1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

সন্দেশখালিতে রাজ্যপালকে নারীদের আর্জি, শাহজাহানকে ধরুন

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বিক্ষোভে উত্তাল সন্দেশখালি গেলেন রাজ্যপাল আনন্দ বোস। সেখানে নারীরা তাকে বললেন, শাহজাহান, শিবু হাজরাকে গ্রেপ্তার করুন।

https://p.dw.com/p/4cI3e
সন্দেশখালিতে শেখ শাহজাহানের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে ইডি কর্মকর্তাদের তল্লাশি।
বেশ কিছুদিন ধরে অশান্ত সন্দেশখালি। এখানে শাহজাহানকে ধরতে গিয়ে ইড়ি কর্মকর্তাদের মার খেতে হয়েছিল। ছবি: Satyajit Shaw/DW

গত কয়েকদিন ধরে উত্তাল সন্দেশখালি। স্থানীয় মানুষ তৃণমূলের নেতাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। তাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরা। এখানে তৃণমূল নেতা  শিবপ্রসাদ হাজরা বা শিবু হাজরার জমিতে পোলট্রি ভাঙচুর করা হয়েছে। কিছু জায়গায় আগুন ধরানো হয়েছে। অভিযোগ, শিবপ্রসাদ জোর করে দখল করা জমিতে এই পোলট্রি করেছিল।

শাহজাহানের বাহিনীকেও ভাগিয়ে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। শিবপ্রসাদও শাহজাহানের সহযোগী। আর শাহজাহান হলেন তৃণমূল নেতা, যার বাড়িতে তল্লাশি করতে গিয়ে ইডি-র অফিসারদের মার খেতে হয়েছে। শাহজাহানের নামে সন্দেশখালিতে একটা বড় বাজার আছে। শাহজাহান এই এলাকা ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ করত বলে অভিযোগ। এখন সে পলাতক।

সন্দেশখালিতে অশান্তির খবর পেয়ে রাজ্যপাল কেরালা সফর কাটছাঁট করে সোমবারই কলকাতা এসে সোজা চলে যান সন্দেশখালি। যাওয়ার পথে তৃণমূলের নারী সমর্থকেরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তা অবরোধ করার চেষ্টা করে। তাদের দাবি ছিল, একশ দিনের কাজের টাকা দিল্লিকে দিতে হবে। রাজ্যপাল সেই টাকা আনার ব্যবস্থা করুন।

দুর্নীতি হয়েছে অভিযোগ করে পশ্চিমবঙ্গকে একশ দিনের কাজের টাকা দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় সরকার। সেই অর্থের পরিমাণ বেশ কয়েক হাজার কোটি টাকা।

নারীদের দাবি

রাজ্যপাল সন্দেশখালিতে পৌঁছানোর পর স্থানীয় নারীরা তাদের ক্ষোভের কথা জানান। তারা বলেন, শাহজাহান, শিবপ্রসাদরা দিনের পর দিন নারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছে, অত্যাচার করেছে, জোর করে জমিদখল করেছে। তাদের গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করুন।

নারীদের দাবি, শাহজাহানদের গ্রেপ্তার করতে হবে। না হলে রাজ্যপাল চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আবার আগের মতো হয়ে যাবে।

ভারতে রাজ্যপাল হলেন, কেন্দ্রীয় সরকার নিযুক্ত প্রশাসনিক প্রধান এবং তার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ। তিনি কাউকে গ্রেপ্তার করতে বা করার নির্দেশ দিতে পারেন না। এই কাজটা পুলিশের করার কথা। আর পুলিশ হলো রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণে।

সাবেক সিপিএম বিধায়ক গ্রেপ্তার

সন্দেশখালিতে অশান্তি করার জন্য সাবেক সিপিএম বিধায়ক নিরাপদ সর্দারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার তাকে কলকাতার বাঁশদ্রোণী থানায় গ্রেপ্তার করা হয়। তারপর সিপিএম সেই থানা ঘেরাও করে রেখেছিল। সিপিএম জানিয়েছে, তারা রাজ্যের সব থানা ঘেরাও করবে।

রাজ্যপালকেও স্থানীয় মানুষ বলেছেন, আসল অভিযুক্তদের পুলিশ ধরছে না। তারা অন্যদের গ্রেপ্তার করছে। শিবুর বিরুদ্ধে তারা অভিযোগই নিতে চায়নি।

সন্দেশখালি নিয়ে শুভেন্দু

বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপি বিধায়করা এদিন 'সন্দেশখালি সঙ্গে আছি' টি শার্ট পরে বিধানসভায় আসেন। তারা অধিবেশনের শুরু থেকেই স্লোগান দিতে থাকেন। স্পিকার ওই টি শার্ট খোলার অনুরোধ করলেও তারা রাজি হননি। তারা কাগজপত্র ছিঁড়ে দেন। স্পিকার শুভেন্দু-সহ ছয়জন বিজেপি বিধায়ককে বহিষ্কার করেন।

পরে শুভেন্দুরা সন্দেশখালি যেতে চান। কিন্তু পথে তাদের আটকে দেয়া হয়েছে।

ফল কী হবে?

প্রবীণ সাংবাদিক শুভাশিস মৈত্র ডিডাব্লিউকে বলেছেন, ''দেখে মনে হচ্ছে, তৃণমূল সন্দেশখালিতে বেকায়দায় পড়েছে। যেভাবে সাধারণ মানুষ তৃণমূলের প্রধান নেতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে, সেটা ক্ষমতাসীন দলের কাছে খুব ভালো খবর নয়।''

শুভাশিস মনে করেন, ''বিজেপি দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পা ফেলার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে ভেবে সন্দেশখালি নিয়ে প্রবল হইচই করছে। আর বিজেপি যাতে কোনো রাজনৈতিক সুবিধা না পায়, সেজন্য সিপিএমকে প্রাধান্য দেয়ার নীতি নিয়েছেন মমতা। সাবেক সিপিএম বিধায়ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিপিএম থানা ঘেরাওর কর্মসূচি নিয়েছে। ফলে সন্দেশখালি নিয়ে ভরপুর রাজনীতি হচ্ছে।''

শুভাশিসের বক্তব্য, ''এই ঘটনা তো দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। তখন সিপিএম বা বিজেপি কেন চুপচাপ ছিল?'' তার মতে, ''সেখানে বিজেপি ও সিপিএমের সংগঠন বলতে কিছুই ছিল না। পুরো জায়গাটা তৃণমূল নিয়ন্ত্রণ করত।''

জিএইচ/কেএম(পিটিআই, আনন্দবাজার)